Thursday, February 18, 2021

~ব্যক্তিগত বেদনা~

 ব্যাকুল হয়ে কৌতুহলে জিজ্ঞাসাবাদ চলল কেমন আছি
বললাম আমার না খুব মরে যেতে ইচ্ছে করে জানেন?
নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্ব হারানো কৃষকের মতো আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে।

জন্মের অভিশাপে আজন্ম প্রায়শ্চিত্তে ধুলোমাখা কেশের কিশোরীর ফুল বিক্রির আকুতি দেখে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে।
বাক স্বাধীনতা হারানো নষ্টদের নষ্টে জর্জরিত একটা স্বাধীন দেশের মূলনীতির মতো আমারও মরে যেতে ইচ্ছে করে।

প্রেয়সীর ভালোবাসা, অভিমান বা দেহের তিলে এক আগন্তুকের দেয়া কপিরাইটের মামলা বয়ে বেড়ানো প্রেমিকের মতো আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে।

এ শহরে যুবকদের খামে ভরা স্বপ্ন গুলো বিজয় সরণির ট্রাফিক জ্যামে আটকে পরা বাসের মতো
কিংবা নব্য কবি-লেখকের অপ্রাপ্তির খাতায় প্রকাশনীর অধিপতির অবজ্ঞা উপেক্ষার মতো মরে যেতে ইচ্ছে করে।

ওপাশ থেকে অসন্তোষের আওয়াজ আসলো
"কাব্যিকতা ছাড়ো বাপু!", কেমন আছো বল ব্যক্তিগত বেদনার আদলে
বললাম আমার জেলাভিত্তিক শাখার আহাজারি ও আর্তনাদ গুলো কেন্দ্রীয় শাখায় পৌছালেই সাপ্তাহিক ছুটি।

ব্যক্তিগত বেদনা? এ স্বার্থপর, প্রত্যাখ্যানের যুগেও পরম স্নেহে আমার দুঃখের তরী সামলানো নাবিকের ছেড়ে যাওয়া সহস্র দূরত্বে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে।

গল্পকথনে বর্তমান কাল আমার খুব প্রিয়, নাবিকের অতীতে রুপান্তরের বিস্ফোরণে কলিজা ছিঁড়ে একশো এক টুকরো হওয়া পিণ্ডের মতো আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে।

১২-০২-২০২১

Wednesday, February 10, 2021

"দুইশত তেতাল্লিশ কিলোমিটার"

এই দেয়াল, এই গলি, এই শহরে_কতশত প্রেম প্রনয় অভিধানে তালিকাভুক্ত হল বলে
প্রিয়তে আগলে রাখা স্মৃতি ভাণ্ডার আর্তনাদে রুপান্তর কৌশলে।

এই দূরত্ব, এই আকাঙ্ক্ষা, এই আঘাত, এই উৎকণ্ঠা_ভেতরে আগ্নেয়গিরির প্রসাধনী
অন্তর জগতের সুতোর টানে অজস্র পাহাড়-পর্বত সন্ধিতে সমতল ভূমি।

এই অভ্যন্তরীণ হুংকার, এই ক্ষুধা, হিয়া বিরোধী আদিম কামনার দ্বন্দ্ব_অনুপস্থিতির অশ্রুপাতে গঠিত হল বিদ্রোহের সাক্ষ প্রমাণ
সুশ্রী অবয়ব, দৈহিক আকর্ষণ বড়  ফিকে_অর্জনের প্রার্থনায় স্থান নিলো মোনাজাত কিংবা পুজোর রক্তজবার ঘ্রাণ।

আকস্মিক, এই অপরিকল্পিত বিচ্ছেদে বিধবে কাঁটা_চাওয়া পাওয়ায় চিত্ত অকুতোভয়
প্রেমময় তৃষ্ণা নিবারণে প্রিয়ার সন্নিকটে খুঁজবে আমরণ আশ্রয়।

হাজার বছরের গন্তব্য স্থির_কেবল দূরত্বের ভীতি কিলোমিটারে মাপা গাণিতিক ভুল
অপারগতার সংশয়ে আশ্বস্ততার আলিঙ্গন, আগাম ঝড়ের শনিরেখায় চায়ের কাপে নির্ভরতার চুমুকে মশগুল।

বিচ্ছিন্ন কণ্ঠস্বর, বিচ্ছিন্ন বার্তা, বিচ্ছিন্ন মুঠোফোন, বিচ্ছিন্ন পারস্পরিক সমঝোতা
নিশ্চিহ্ন হবে জড়তা_শান্তিচুক্তিতে ঘটিত অবহেলার ক্ষত, অতঃপর আত্ব আন্দোলনের স্ব-পুরস্কৃত শ্রেষ্ঠ বিজয়দাতা। 


০৪-০২-২০২১

Tuesday, April 2, 2019

"কাব্যিক সতর্কবার্তা"

সুকন্যা_প্রেমে পড় না,
আমার মতন কোন উন্মাদ প্রেম পিয়াসুর প্রেমে পড় না
প্রেমে পড়লে আঁকড়ে থাকবে চিরকাল নিদারুণ প্রনয়ে।

আমার মতন কাব্য প্রেমীর প্রেমে পড় না,
আমি বন্দী প্রেমের বিষাদে জ্বলতে থাকা কোন এক ধূসর রঙের কারাগারে
আমি লেগে আছি প্রেমের কাঁটাপথ পাড়ি দেওয়া অনুত্তীর্ণদের মিউজিয়ামের দেয়ালে
আজকাল তাই আমায় ছুঁয়ে থাকে অমানিশায় মুচড়ে পড়া স্মৃতি বিলাসে।

মায়া বিভ্রান্তির জালে জড়ানো "আমার" প্রেমে পড় না,
প্রেমে পড়লে বিলিয়ে যাবে মনোজগতের গভীর রাজ্যে
বিলিয়ে যাবে বিষণ্ণ কোন এক সুনসান নীল নদীর ধারে

বড্ড লোভী প্রেমিক আমি_কিছুটা অশ্লীলও
প্রেমে পড়লে তোমার নিশ্বাসে চুমু খাবো খুব সযত্নে
চুমু খাবো তোমার সুখ অথবা বিষাদময় স্মৃতি গুলোতে
চুমু হতে পারে আনন্দ অশ্রুতে মিশে থাকা তোমার আঁখি দুটোতে।

খুব করে বলছি_প্রেমে পড় না
যত্নে আর আঁকড়ে রাখা খুব চিরাচরিত প্রেমিক আমি
আমি আঁকড়ে রব তোমার আগাম স্মৃতিতে অথবা নিষ্ঠুর অতীতের প্রলাপে
জ্যোৎস্না বিলাসে না থাকলেও তোমার মন খারাপের রাতে ঠিকই ধরা দেবো।

আমার মতন নির্ভীকের প্রেমে পড় না
বিশেষ দিনের বিশেষ আবেদনে থাকতে পারে তোমার আনাগুনা
সময়ের বিবর্তনে পারিবারিক ফ্রেমে হতে পারে তোমার যোগদান।
সুকন্যা_তাই আগাম আভাস দিচ্ছি প্রেমে পড়না। 

৪ জুন, ২০১৬

"প্রাক্তন প্রেমিক বলছি"

প্রিয় অর্ধাঙ্গিনী_তুমি শুনছো?
এ-বেলার নীরস, কর্পোরেট ও বিরক্তকর আমিও একদা প্রেমিক ছিলাম।
কুয়াশায় জর্জরিত কোন এক নির্জন সকালে আমিও মেয়াদ উত্তীর্ণ সুগন্ধি গায়ে জড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনেছি,
অথবা আমিও ছিলাম বৃষ্টিস্নাতে ভেসে যাওয়া দ্বিতীয় প্রহরে প্রিয়ার অভিমানে লেগে থাকা দুরূহ অশ্রুতে।
কোন এক কড়া রৌদ্রের ভীষণ ক্লান্তিকর দিনে আমিও প্রিয় অবয়বরের সান্নিধ্যে অপেক্ষায় থেকেছি অবিরামভাবে,
অথবা আমিও আঁট নাম্বার বাসে তাজা গোলাপ বয়ে বেড়িয়েছি কারো খোপায় গুঁজবো বলে।
অর্ধাঙ্গী জানো কি?
অভিলাষী আর স্বচ্ছ অনুভুতিতে আমিও কতশত কবিতার কথামালা ড্রাফ্টে জমা করেছি,
প্রিয় গল্প কিংবা উপন্যাসের প্রিয় চরিত্রের কল্পনাবিলাসে উড়ে বেড়িয়েছি বারংবার,
অথবা কোন রোম্যান্টিক সিনেমার শেষ দৃশ্যে আমিও প্রিয়ার স্পর্শ অনুভব করেছি।
আমিও একদা প্রেমিক ছিলাম জানো?
ছুঁয়ে গিয়েছিল আবেগ_ভুলে ছিলাম আমার প্রার্থনায় প্রাক্তনের বিষাদের চুমো খাওয়া,
ভুলে ছিলাম পাওয়ার হিসেবের খাতার শুন্যের রাজকীয়তার আহাজারি।
আর তারপর?
তারপর বাস্তবতার আঘাতে চেতনায় ফিরে আসি_আলেয়ার পৃথিবী প্রস্থান,
ফিরে আসি নাট্যমঞ্চের এই পৃথিবীতে_প্রবঞ্চনার তিক্ত স্বাদে এ-বেলার আমি প্রলাপ করি "অর্ধাঙ্গিনী তুমি শুনছো? আমিও একদা প্রেমিক ছিলাম......

Friday, April 29, 2016

তুমি আমার

তুমি আমার গভীর নিশিতে মন খারাপের সঙ্গী,
অথবা বৃষ্টির রাতে অভিযোগের নির্মাতা।
তুমি আমার প্রিয় গানের প্রিয় দুটো লাইন,
তুমি আমার গভীর অন্ধকারে আবছা আলোর জোনাকি-পোকা।


তুমি আমার শীতের শুভ্র কুয়াশার একটু উষ্ণতা,
অথবা তুমি আমার প্রিয় চলচ্চিত্রের প্রধান নায়িকা।
তুমি আমার মুঠোফোনের ওপাশের আহবান,
তুমি আমার প্রথম প্রেমের প্রথম অনির্বাণ।
তুমি আমার বজ্রকন্ঠে লুকনো অনুভূতির শেষ আশ্রয়
তুমি আমার কল্পনার পরিবারের অনেকটা ভাসমান।
তুমি আমার মিষ্টি হাসির_ভালো লাগা অপ্রাণ
তুমি আমার চৌদ্দ ফেব্রুয়ারিতে নিঃসঙ্গের প্রায়শ্চিত্ত,
অথবা আমার চোখের কোণায় ঝরে পরা ক্রন্দন।

কতিপয় প্রলাপ

অথচ স্বপ্ন বিলাস আমার দুর্বিষহ লাগতো,
কল্পনার বিলাসিতায় না উড়ে বাস্তবতার আলিঙ্গনে মিশে থাকতে চেয়েছিলাম,
আর অলস দিনে তোমার অবয়বের সান্নিধ্য পাওয়ার কথা ছিল
দূরত্ব ভুলে আমরণ ভালবাসার কথা ছিল
এই ক্ষীণ মরীচিকা আর আলেয়ার পৃথিবীকে উপেক্ষা করে
একাত্মতা ঘোষণার কথা ছিল।
এই শীতের রাতে কবির বিষাদের কফি খাওয়া মানায় না,
অথচ কুয়াশার রাতে তাহার স্পর্শে প্রিয় কবিতা পাঠ করার কথা ছিল।
শ্যামলী সিনেমাহলে জোড়া পাখিদের বিরল ভালবাসা দেখতে আমার ভাল লাগেনা
ইচ্ছে হয় বেদনার বোমা ছুড়ি
অথচ সমালোচনা ভুলে,
এক সাথে রাজা-খানের দুর্বিষহ সিনেমাটা দেখার কথা ছিল।

এইতো সেদিন_কিছুদিন আগেও বৃষ্টি হত
সবুজ রঙের প্রনয়ের বৃষ্টি
কেমন যেন এক উন্মাদনা ছিল বৃষ্টির ফোঁটায়
ইচ্ছে? আকুতি অথবা আকাঙ্ক্ষা?
পূরণ হয়ে যেত_মেঘের সাথে যে আমার বন্ধুত্ব ছিল।

আজো বৃষ্টি হয়_ গাঢ় লাল রঙের বৃষ্টি
এই বৃষ্টির স্বাদ কেবল কবির সৃষ্টিশীল কর্মে লেগে থাকে,
অথবা মুঠোফোনের আজ্ঞাপত্রে,
আর মুখ-বইয়ের "শুধুই আমি" নোটে।

দীর্ঘশ্বাস অথবা দুঃখ_পড়ন্ত সূর্যের ইতিকথা কেউ জানলো না
আমার গল্পে বিষাদের আবহ সঙ্গিত নেই বলে,
কারো প্রিয়তে জমা অথবা আবেগে আঘাত হানবেনা।

ভাবছি কতিপয় প্রলাপ ভুলে ফেরিওয়ালা হয়ে যাব
আমার স্লোগান হবে হেলাল হাফিজের কবিতার দু-লাইন,
কষ্ট নেবে কষ্ট
হরেক রকম কষ্ট আছে।

"তাহারা অথবা তুমি"

তাহারা অগান্তুকের কথা শুনে হিয়ার কথা নয়,
বঙ্কিমচন্দ্রের রচনা বোঝে উৎসর্গে লেখা চিঠি নয়।
তাহারা মুঠোফোনের অবাধ বার্তা বোঝে,
বোঝে দূরদর্শনের উপস্থাপিকার কর্কশ কথোপকথন
বোঝেনা অথবা শুনে না মুঠোফোনের ওপাশের অসহায়ত্বের ধ্বনি।
তাহারা নিকোটিনের সাথে বিরোধিতার মানে বোঝেনা
বোঝেনা একাকীত্বের প্রতিফলন অথবা নীরবতার গ্লানি।

কতনা বেদনা_কতনা সংকীর্ণতা সয়ে যায়
কতনা ভয়াল নিশির হাতছানি উপেক্ষিত হয়
আর তাহারা আলেয়ার তরে ভাসিয়ে দেয় চলিত সুখ।
তাহাদের অভিধানে মুছে গেছে অতীত আর অনুভূতি
অথবা তাহারা জানে না অপরাগতা অথবা জীবিকার ধাঁধার মানে,
তায়তো বাস্তবতার অভিলাষে তিনশো দুই ধারায় মৃত্যু হয়েছে আবেগের।

অনুভূতি আর কল্পনার রক্তক্ষরণ হয়েছে এবেলায়
অথচ অনুভূতির রক্তের দলের সাথে তাহাদের অনুভূতির দলের মিল নেই,
তাই এবেলায় নিরাময় হলনা_অনুভূতি তুমি ভাল থেকো।